সাইফুল ইসলাম সাগর কলাপাড়া প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর মহিপুর থানাধীন মনসাতলী গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী নুর আলম হাওলাদার (৬০) ও তার পরিবারের সদস্যরা।
রবিবার (৩১ মে) সন্ধ্যায় কুয়াকাটা রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী ইয়াকুব আলী (৫৫) ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে।
লিখিত বক্তব্যে নুর আলম হাওলাদার জানান, মহিপুর থানার মনসাতলী মৌজার জেএল নং-২৮, বিএস খতিয়ান নং-৪২১-এর দাগ নং-৫৫/৫৬ অনুযায়ী দলিলমূলে ক্রয়কৃত ৫১ শতাংশ এবং সরেজমিনে ৪৮ শতাংশ জমি তিনি প্রায় ৪২ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছেন। তবে অভিযুক্তরা ওই জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে আসছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে আদালতে একটি বণ্টন মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। এর আগে প্রায় পাঁচ মাস আগে অভিযুক্তরা তাকে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করলে তিনি মহিপুর থানায় অভিযোগ করেন। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে উভয় পক্ষের মধ্যে আপস-মীমাংসা হয়। মীমাংসা অনুযায়ী আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত বিরোধপূর্ণ জমিতে কোনো পক্ষ মাটি কাটা, ভরাট, পুকুর খনন, স্থাপনা নির্মাণ বা অন্য কোনো ধরনের পরিবর্তন আনতে পারবে না বলে অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, আপসের পর কিছুদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও গত শনিবার (৩০ মে) সকাল ৭টার দিকে ইয়াকুব আলী ও তার লোকজন বিরোধপূর্ণ জমির কাঁটাতারের বেড়া ভেঙে জমির আকার-আকৃতি পরিবর্তনের চেষ্টা করেন। এ সময় বাধা দিতে গেলে ইয়াকুব আলী, ইয়াসিন ও রহিমা বেগমসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলার চেষ্টা করে এবং তাকে হত্যা করে গুম করে ফেলার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেন নুর আলম হাওলাদার।
তিনি বলেন, আমার ও আমার পরিবারের কোনো ক্ষতি হলে এর জন্য ইয়াকুব আলী, ইয়াসিন ও রহিমা বেগম দায়ী থাকবে।
এ ঘটনায় মহিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে কুয়াকাটা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মিজানুর রহমান, সাধারণ-সম্পাদক আবদুল্লাহ মানিকসহ সদস্যবৃন্দ এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।