প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 29, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 19, 2026 ইং
মহিপুরে নদীর পাড়ের সরকারি খাস জমি দখলের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর বাজারের কাঠপট্টি রোডসংলগ্ন নদীর পাড়ের সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ফারুক হোসেন (পিতা: মোস্তফা, সাং: মহিপুর)-এর বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) গভীর রাতে নদীর পাড়ের খাস জমি দখল করে রাতারাতি একটি ঘর নির্মাণ করা হয়। এ ঘটনায় অবৈধ অর্থের বিনিময়ে প্রভাবশালী একটি মহলের সহযোগিতায় সরকারি জমি দখল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে জায়গাটি খালি ছিল। সকালে এসে তারা দেখতে পান সেখানে নতুন করে একটি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। তাদের দাবি, মহিপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য বন্দর হওয়ায় প্রতিদিন শত শত সামুদ্রিক মাছ ধরার ট্রলার নদীর তীরে নোঙর করে। এভাবে নদীর পাড় দখল হতে থাকলে ট্রলার নোঙরের জায়গা সংকুচিত হবে এবং জেলেরা বিকল্প স্থানে যেতে বাধ্য হবেন, যা স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এছাড়া স্থানীয়দের আশঙ্কা, নদীর পাড় দখলের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নাব্যতা ব্যাহত হবে। তাদের অভিযোগ, অতীতেও প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে নদীর তীর দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। ফলে নদীর প্রশস্ততা কমে গেছে এবং খালগোড়া-সংলগ্ন সাগরের মোহনাও নাব্যতা হারিয়ে ভরাট হয়ে পড়েছে। এতে বড় লঞ্চ, জাহাজ এবং ভাটার সময় মাছ ধরার ট্রলার চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি খাস জমি দখল অব্যাহত থাকলে একদিকে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি বেহাত হবে, অন্যদিকে মহিপুর মৎস্য বন্দরের ব্যবসা-বাণিজ্যও মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা মহিপুর ভূমি অফিস, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে সরকারি খাস জমি সংরক্ষণ এবং নদীর নাব্যতা রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কুয়াকাটা আপডেট