প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 3, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 1, 2026 ইং
পুলিশের চাকরি ব্যবসার মতো’—ভাইরাল অডিও ঘিরে কলমাকান্দা থানার ওসিকে নিয়ে বিতর্ক

কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাশেমকে ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে একজন ব্যক্তিকে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বিভিন্ন মন্তব্য করতে শোনা যায়। অডিওতে ‘পুলিশের চাকরি এক ধরনের ব্যবসা’ বলে বক্তব্য দেওয়ার দাবি করা হচ্ছে। তবে ওই অডিওর সত্যতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
শনিবার (৩০ মে) ভাইরাল হওয়া অডিওটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। রেকর্ডটিতে শোনা যায়, একজন বক্তা পুলিশ সদস্যদের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা, অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং অর্থনৈতিক বিষয়াদি নিয়ে কথা বলছেন। একই সঙ্গে তিনি পুলিশি পেশাকে ‘এক ধরনের ব্যবসা’ হিসেবে উল্লেখ করেন বলে দাবি উঠেছে।
অডিওতে আরও শোনা যায়, থানার অভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ডে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। পাশাপাশি কোনো সদস্য যেন অন্যকে বিপদে না ফেলে এবং সবাই যেন নিজেদের প্রাপ্য সুবিধা পায়, সে বিষয়েও বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।
এছাড়া একটি মামলার তদন্ত, চার্জশিট দাখিল কিংবা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার ক্ষেত্রে থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার পরামর্শও ওই অডিওতে রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সেখানে ‘গুপ্ত-গুপ্ত’ শব্দ ব্যবহার করে কিছু সদস্যের গোপন কার্যক্রমের ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে।
তবে ভাইরাল হওয়া অডিও সম্পর্কে কলমাকান্দা থানার ওসি মো. আবুল হাশেম বলেন, রেকর্ডে শোনা কণ্ঠ তার নয়। কীভাবে তার নাম ব্যবহার করে এমন অডিও প্রচার করা হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলেও দাবি করেন।
এ বিষয়ে নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে। অডিওটির সত্যতা ও অভিযোগের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৫ মে কলমাকান্দা থানাকে কেন্দ্র করে আরেকটি আলোচিত ঘটনা সামনে আসে। চোরাইপথে আনা ভারতীয় প্রসাধনী ছাড় করিয়ে দেওয়ার অভিযোগে ঘুষের দর-কষাকষি সংক্রান্ত একটি কলরেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থানার এক উপ-পরিদর্শককে প্রত্যাহার করা হয়। একই ঘটনায় তৎকালীন ওসিকেও বদলি করা হয়েছিল।
তথ্যসূত্র: The Daily Ittefaq
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কুয়াকাটা আপডেট