প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 17, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 14, 2026 ইং
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রভাবে চলছে দেশে জ্বালানি সংকট,মাছ শিকারে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা

সাইফুল ইসলাম সাগর:
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রভাবে চলছে দেশে জ্বালানি সংকট,মাছ শিকারে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা
এতে সমুদ্রগামী জেলেদের জীবনসংগ্রামে পড়েছে বড় ধাক্কা। মা’ ইলিশসহ মাছের সুষ্ঠু প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকারের আরোপিত ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞায়— নতুন করে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা ও হতাশা। এবার সংকট ও ঘাটতি একসাথে দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে পটুয়াখালীর মৎস্য বন্দর আলীপুর-মহিপুর ও কুয়াকাটার উপকূলীয় জেলেরা।
বঙ্গোপসাগরে প্রতি বছরে ন্যায়ে ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছের সুষ্ঠু প্রজনন নিশ্চিত করতে— ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত সব ধরনের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
সরকারের মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রচার-প্রচারণা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু করেছে।
জীবন জীবিকার বর্ণনা করতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন কুয়াকাটা উপকূলের জেলে মাসুদ মাঝি। তিনি জানান, দীর্ঘ দুই যুগের বেশি সময় ধরে তিনি জেলে পেশায় রয়েছেন। তবে এই পেশা থেকে অদ্যবদি নিজস্ব ভিটেমাটিটুকুও করতে পারেননি। অন্যদিকে ঋণের বোজা যেন জীবন দূর্বিষহ করে তুলেছে। এখন চাইলেও পেশা পরিবর্তন করতে পারছেনা।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “পোলাপান নিয়া কোনোমতে সংসার চলে। এহন তেল যা পাই এ দিয়া চরম বেকায়দায় আছি; এদিকে আবার মাছ ধরা ৫৮ দিন বন্ধ! বিগত দিনের ঘাটতি যেন মোগো পিছু ছাড়ছে না।”
মহিপুরের জেলে রফিক মাঝি জানান, বেশ কিছুদিন ধরে ডিজেল সংকটে সাগরে যেতে পারেনি। এখন নিষেধাজ্ঞা শুরু হলে পরিবার চালাবেন কীভাবে বুঝতে পারছেন না।
একই এলাকার আলীপুরের জেলে ফারুক মাঝি বলেন, ‘সরকার মোগো যে প্রণোদনা দেয়, হ্যইয়া দিয়া সংসার চলে না। আসল জাইল্লাগো জন্য চাউলের সাহায্য বাড়ানো দরকার।’
মৎস্য ব্যবসায়ীরা বলছেন, সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় তাদের লোকসান বাড়ছে।
আলীপুর বিএফডিসি মার্কেটের মনি ফিস’র মালিক আঃ জলিল ঘরামি বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার সময়টা বাড়তি চাপ তৈরি করে, জেলের সংসার চালাতে আড়ৎ থেকে টাকা দিতে হয়। তাদের বিকল্প জীবিকার সুযোগ না থাকায় আড়ৎদার ও জেলে সবাই দুশ্চিন্তায় থাকে।’
নিষেধাজ্ঞাকালে কলাপাড়া উপজেলায় নিবন্ধিত ১৮ হাজার ৩’শ জেলেকে জনপ্রতি ৭৭ দশমিক ৩ কেজি করে চাল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মৎস্য বিভাগ। তবে এই সহায়তা আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন জেলে সংগঠনের নেতারা। কলাপাড়া উপজেলা ফিশিং ট্রলার মাঝি সমবায় সমিতির সভাপতি আঃ মান্নান মাঝি বলেন, প্রনোদনা ঠিক সময় জেলেদের হাতে পৌঁছানো এবং পরিমাণ বৃদ্ধি করা খুবই জরুরী।
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, প্রকৃত জেলেদের সহায়তা নিশ্চিত করতে তালিকা যাচাই করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্টদের আবেদন অনুযায়ী প্রণোদনা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
নিষেধাজ্ঞা সফলভাবে কার্যকরে সাগরে নজরদারি জোরদার থাকবে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জেল-জরিমানার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ কুয়াকাটা আপডেট